| |

Ad

রাঙ্গাবালীতে দাখিল পরীক্ষা ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়

আপডেটঃ 1:00 pm | March 04, 2019

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ‍উঠেছে।
মাদ্রাসা সুপারদের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকরা অবৈধভাবে এ অর্থ আদায় করেছেন। টাকা না দিলে ফেল করানো হতে পারে এমন ভয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা টাকা দিতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি ভয়ে মুখ খুলতেও চাচ্ছে না তারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বক্তব্য দিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জ‍ানা গেছে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড পরিচালিত দাখিল পরীক্ষায় কৃষি শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি এই দু‌ই বিষয়ে ব্যবহারিক এবং ক্যরিয়ার ও শারিরিক শিক্ষা এ দুই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানিকভাবে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পরীক্ষা রয়েছে।
এ সুযোগে রাঙ্গাবালী উপজেলার মাদ্রাসাগুলোর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক ও সুপারদের যোগশাজশে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪‌‌‘শ থেকে ৬‘শ টাকা করে আদায় করেছে। টাকা দিতে যারা অনিহা প্রকাশ করেছে তাদেরকে ফেল করানো ও মার্ক কম দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে। মার্ক কম ও ফেলের ভয়ে কোনো শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবক প্রতিবাদ করেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, ‘ব্যবহারিক পরীক্ষায় অবৈধভাবে অর্থ আদায় এটা যেন একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। রাঙ্গাবালীতে প্রতি বছরই এভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক ও সুপার মিলে টাকা আদায় করে আসছে। অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর এভাবে চললেও এর কোনো প্রতিকার হয়নি।’
ছোটবাইশদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার একাধিক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘কৃষি শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবাহারিক পরীক্ষার জন্য লিখিত পরীক্ষার শেষ দিন (২ ফেব্রুয়াররি) আমাদের কাছ থেকে ৩‘শ টাকা করে নিয়েছে শিক্ষকরা।
এর আগে ক্যরিয়ার ও শারিরিক শিক্ষা বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যয়ন পরীক্ষার জন্য ৩‘শ টাকা করে আমাদের কাছ থেকে নিয়েছে। কেউ কম দিতে চাইলে মার্ক কম দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে। তাই ভয়ে আমারা কেউ কোনো কথা বলিনি। যা চেয়েছে তাই দিয়েছি।’
গাব্বুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার একাধিক পরীক্ষার্থী  ও অভিবাবক অভিযোগ করে জানান, কোনো নিয়ন নীতির তোয়াক্কাই করছেনা শিক্ষকরা। মাদ্রাসা সুপার মাও. ইলিয়াস এর নির্দেশে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫‘শ টাকা করে নিয়েছে শিক্ষকরা। আর খাতা কেনার জন্য নিয়েছে ১‘শ টাকা। শুধু ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্যই যদি ৬‘শ টাকা করে দিতে হয়, তাহলে প্রত্যন্ত এ এলাকার গরিব-অসহায় লোকজন তাদের সন্তানদের পড়ালেখা করাবে কিভাবে? প্রবেশ পত্র বিতরণের সময়ও নিয়েছে অতিরিক্ত টাকা। এর কোনো প্রতিকার হচ্ছে না।
ছোটবাইশদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও. আলমগীর হোসেন বলেন, পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে আমি ৫‘শ টাকা নেইনি। এই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২‘শ টাকা করে নিয়েছি।
গাব্বুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও. ইলিয়াস অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেদককে বলেন, আমি টাকা নেইনি, যেই পরীক্ষার্থী অভিযোগ দিয়েছে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোকলেসুর রহমান বলেন, ‘ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আলাদা কোনো টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। কেউ টাকা আদায় করে থাকলে সেটা অবৈধ। প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।