| |

Ad

ঠাকুরগাঁওয়ে হাইকোর্টের আদেশ মানছে না কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা

আপডেটঃ 1:03 pm | March 04, 2019

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গীতে হাইকোর্টের রায় অমান্য করে সরকারি নির্দেশ না মেনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে মাইকিং করে সকল প্রকার কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় প্রশাসন। এতে কিছুদিন কোচিংয়ের প্রবণতা কম চোখে পড়লেও বর্তমানে সরকারি নিয়ম নীতিমালা ও হাইকোর্টের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে চলছে পীরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলার কোচিং সেন্টারগুলো।
জেলার পীরগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাহির থেকে দরজা জানালা বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের কোচিং করাচ্ছে শিক্ষকরা। একই অবস্থা দেখা ইউরেকা, উন্মেষ, মেধাবিকাশ, অ্যাবাকাস, প্যাকেজ প্রোগ্রাম, প্রতিভাসহ নামে বেনামে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোতে। তবে কোচিং সেন্টার বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার উদ্যোগ না নেয়ায় অবাধে এসব কোচিং বাণিজ্য চলছে বলে জানায় কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা।
তবে কোচিং শিক্ষকরা জানান, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ বড় ধরনের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে মাত্র ৫‘শ হতে ‍এক হাজার টাকা জরিমানা করার কারণে কোচিং শিক্ষকরা ভয় না পেয়ে অবাধে কোচিং করাচ্ছেন। এতে করে সরকারি নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে স্কুল কলেজের শিক্ষকরা আড়ালে অবৈধভাবে কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এতে শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে স্কুলে না গিয়ে তাদের কাছে গিয়ে কোচিং করছে। তাই স্কুল ফাঁকিসহ বিভিন্ন কারণে ছাত্র ছাত্রীরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই কোচিং সেন্টারে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ওমর ফারুক নামে একজন সচেতন অভিভাবক জানান, কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা এখন অভিনব কায়দায় কোচিং করাচ্ছেন। সময়সূচী ও স্থান পরিবর্তন করে সকাল ৬ টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এবং দুপুর ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোচিং করাচ্ছেন। অনেকেই আবার বাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে গোপনে একসাথে শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার জন্য ইতিমধ্যে কয়েকটি কোচিং সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। তারপরেও যদি কেউ কোচিং সেন্টারে পাঠদান অব্যাহত রাখে তাহলে খোঁজ নিয়ে তা বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।