| |

Ad

ক্ষুদে লেখকদের ভরসা লিটলম্যাগ কর্ণার

আপডেটঃ 7:40 am | February 19, 2019

ঢাবি রিপোর্টার : প্রতিবছরের ন্যায় এবারো অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ক্ষুদে লেখকদের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে লিটলম্যাগ কর্ণার। নামিদামি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন লেখকদের লেখা তেমন প্রকাশ করতে না চাইলেও তাদের একমাত্র ভরসা এ কর্ণারটি। আর এর মাধ্যমেই প্রতিবছর বেরিয়ে আসার সুযোগ পায় সম্ভাবনাময় অসংখ্য রবীন্দ্রনাথ, নজরুল কিংবা হুমায়ূন আহমেদের মতো নতুন নতুন লেখক।  তাই নতুন লেখকদের বই প্রকাশে সহায়তা করে যাচ্ছে লিটলম্যাগ কর্নার। এবছর ১৩১টি স্টল বসেছে এখানে।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একপাশে চোখে পড়ে অসংখ্য ছোট ছোট স্টল। এগুলোকেই বলা হয় লিটলম্যাগ বা লিটল ম্যাগাজিন কর্নার। লিটলম্যাগ কর্নারের প্রকাশনীগুলো মূলত নতুন লেখকদের   লেখা প্রকাশ করে থাকে। এখানে শুধু ম্যাগাজিন নয়, রয়েছে গল্প, কবিতা ও উপন্যাসের বই। বিবর্তন প্রকাশনীর স্টলে কথা হয় নতুন লেখিকা নাসরীন জামানের সাথে। তিনি বলেন, বড় বড় প্রকাশনীগুলো তো নতুন লেখকদের লেখা প্রকাশ করতে চায় না। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের সহায়তা করছে লিটলম্যাগের এসব প্রকাশনীগুলো। বিবর্তন প্রকাশনীর মাধ্যমে তিনি দুইটি বই প্রকাশ করতে পেরেছেন বলে জানান।
রাকিব নামে একজন বিক্রয়কর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, দর্শনার্থীরা অনেকেই লিটলম্যাগ সম্পর্কে জানেন না। তাই বেচা-বিক্রি একটু কম হয় এখানে। তিনি লিটলম্যাগ কর্নারের স্টলগুলোকে   সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরিয়ে নেয়া উচিত বলে মনে করেন।
গত সোমবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৮তম দিন। এদিন মেলায় দর্শনার্থীদের চেয়ে পাঠকের আনাগোনা বেশি ছিল বলে মনে করছেন বিক্রয়কর্মীরা। মেলায় বই কেনার এখনই মুখ্য সময় বলে জানান তারা। এদিন মেলায় নতুন বই আসে ১৩৯টি।
মেলায় মূলমঞ্চের আয়োজন: এদিন মেলায় বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবি বেলাল চৌধুরী : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি পিয়াস মজিদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি জাহিদুল হক, দিলারা হাফিজ এবং তারিক সুজাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি রবিউল হুসাইন।
প্রাবন্ধিক বলেন,   বেলাল চৌধুরীর কবিতা অনুধাবন করতে হলে তার নাক্ষত্রিক জীবনের পরিচয় লাভও জরুরি; যিনি অতি অল্প বয়সে প্রগতিশীল রাজনীতি ও সাহিত্যধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রমশ এক বিশাল শিল্পজগতের ক্ষুধা অনুভব করেছেন তার অন্তর্গত সত্তায়। ফলে পঁচিশ বছর বয়সে কলকাতা গমন করে অতি সহজেই সেখানকার সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিবেশের অনিবার্য চরিত্র হয়ে ওঠেছেন। কবিতাচর্চা, কৃত্তিবাস পত্রিকা সম্পাদনা এবং আরো নানাবিধ কিংবদন্তির জন্ম দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরেও তিনি নিজ সত্তার বিচিত্রমাত্রিক প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
আলোচকবৃন্দ বলেন, বেলাল চৌধুরী সামগ্রিকভাবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্ব যিনি তার কবিতা ও জীবনকে করে তুলেছেন অদ্বৈত। তিনি বাংলা ভাষায় লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের একজন পুরোধা অনুবাদক। সাংগঠনিক দক্ষতায় এবং উদারহৃদয় মানসে তিনি ঋদ্ধ করেছেন ঢাকা ও কলকাতার সাহিত্যভুবনকে। তারা বলেন, বেলাল চৌধুরীর সাহিত্যকর্মের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পেতে হলে তার রচনাবলি প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে রবিউল হুসাইন বলেন,   বেলাল চৌধুরী একজন কিংবদন্তির নাম। কবিতা, গদ্যচর্চা, সম্পাদনা, সাংগঠনিক দক্ষতা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যসংস্কৃতিভুবনে তিনি পরিণত হয়েছেন একজন অনিবার্য নক্ষত্রে। তার জীবনের মতোই বিচিত্র-বর্ণিল-ব্যতিক্রম তার কবিতা ও সামগ্রিক শিল্পশস্য।
শিশুকিশোর চিত্রপ্রদর্শনী : অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রতিবছর শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ বছর প্রথমবারের মতো ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিগুলো নিয়ে বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। গতকাল বিকেল ৪:৩০টায় প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। প্রদর্শনী চলবে ২৮শে ফেব্রæয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত প্রতিদিন মেলা চলার সময়।