| |

Ad

যুগ্ম সচিবের পরিবারকে রক্ষার চেষ্টা চলছে!

আপডেটঃ 7:55 am | March 09, 2016

লীড নিউজ ২৪ ডট কম: রাজধানীর কাফরুলের ন্যাম গার্ডেন অফিসার্স কোয়ার্টারে রবিবার কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে ৫৪ ধারার গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন- ন্যাম গার্ডেনের কেয়ারটেকার সিদ্দিকুর রহমান, নিরাপত্তা কর্মী এমদাদুল হক, লিফটম্যান রিয়াজুল হক ও সোহেল রানা। ঘটনার দিনই তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মঙ্গলবার চারজনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত সিদ্দিকুর রহমানকে দুই দিন ও অপর তিনজনকে তিন দিন করে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এদিকে নিহত গৃহকর্মী জনিয়ার স্বজনরা অভিযোগ করছেন, ধর্ষণের পর ছাদ থেকে ফেলে হত্যার সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এখনো হত্যা মামলা নিচ্ছে না। গৃহকর্তা, যুগ্ম সচিব আহসান হাবিরের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। তবে গতকাল পর্যন্ত তাদের কাউকেই আটক করা হয়নি।

কাফরুল থানার ওসি শিকদার শামীম হোসেন জানান, ‘সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা বলছে, মেয়েটি ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার পর তারা দেখেছে। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।’

তবে জনিয়ার বাবা ওসমান গণি দাবি করেন, তার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুগ্ম সচিব আহসান হাবিব, তার ছেলে রুম্মান বিন আহসান ও স্ত্রী নাজনীন আক্তার জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পুলিশ আসল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করছে না।কয়েকজন কর্মচজারীকে ধরে ঘটনা ভিন্ন দিকে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ওসমান গণি।

জানিয়ার বাবার এই অভিযোগের ব্যাপারে ওসি শিকদার শামীম হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। ওই তদন্তের সঙ্গেই জনিয়ার বাবার অভিযোগের তদন্ত চলছে। যদি অভিযোগের সত্যতা মেলে তাহলে অবশ্যই জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

ন্যাম গার্ডেনের ৩ নম্বর ভবনের ৪০৩ বি ফ্ল্যাটে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের যুগ্ম সচিব আহসান হাবিবের বাসায় খন্ডকালীন গৃহকর্মীর কাজ করতে যায় জনিয়া (১৫)। তার মা ফুলবানু ছিলেন ওই বাসার নিয়োমিত গৃহকর্মী। গত রবিবার সকালে কাজে যাওয়ার পর ওই ভবনের নিচে জনিয়ার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

স্বজন ও পুলিশ জানায়, জনিয়ার মুখে ওড়না প্যাচানো এবং শরীরের ধর্ষণের পর হত্যার আলামত আছে। তবে পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নেয়ায় সোমবার মেয়েটির লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।